Home / Media News / দেশের আইনি কাঠামো বড় ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেয়: গবেষণা

দেশের আইনি কাঠামো বড় ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেয়: গবেষণা

Spread the love

বাংলাদেশে অর্থনীতির জন্য যেসব আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তাতে বড় ব্যবসায়ীরাই সুবিধা পায় বলে মন্তব্য করেছেন আঙ্কটাডের গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

২২ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের ‘দ্যা লিস্ট ডেভেলপমেন্ট কান্ট্রিস রিপোর্ট-২০১৮’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এ কথা বলেন।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘এসব (বর্তমান অর্থনীতির) নীতিমালা ছোট উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারছে না। কারণ নীতি কাঠামো গড়পড়তা। অথচ উন্নয়নশীল অর্থনীতি হতে হলে ছোট উদ্যোক্তা তৈরিতেই সবচেয়ে বেশি মনোযোগী হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ক্রেতাদের ইচ্ছায় উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু উদ্যোক্তারা ক্রেতা তৈরি করতে পারছে না। বাংলাদেশের এখন এ ধরনের উদ্যোক্তা জরুরি। এর পাশাপাশি রফতানি পণ্যে বৈচিত্র আনতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সিপিডির  দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণই উন্নয়নের শেষ কথা নয়। উত্তরণে মসৃণ, সুগম পথ সৃষ্টি করতে হবে। এর সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন। এর অর্থ হচ্ছে শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়বে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এজন্য দরকার সুশাসন। সুশাসন ছাড়া উৎপাদনশীল খাতগুলোতে সম্পদের পুনঃবন্টন হবে না। আর এসবের চালিকাশক্তি হচ্ছে উদ্যোক্তা।’

সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করলে, মুনাফা বাড়ানোর আগ্রহ থাকলেই এসব সম্ভব হবে। উদ্যোক্তাদের এসব স্পৃহা সৃষ্টি করতে হলে দরকার প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনীতি।’

দেবপ্রিয় আরও বলেন, ‘প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনীতি হচ্ছে নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সুবিধা সার্বজনীন করা। বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যক্তি শুধু সুবিধা পাবে, অন্যরা পাবে না, তা হবে না। বর্তমানে ব্যবসা-রাজনীতি সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন বোধ করছেন। অনেক ব্যবসায়ী রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কারণে কর অবকাশ, বিভিন্ন ব্যবসার লাইসেন্সসহ সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন।’

এমন পরিস্থিতিতে দেবপ্রিয় নির্বাচনি হলফনামায় দেওয়া প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) পরামর্শ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ঋণ খেলাপী ও কর ফাঁকিবাজদের তথ্যও জনগণের সামনে তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি।

সিপিডির অপর ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সকল উন্নয়নই রাজনৈতিক অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় হয়ে থাকে। এজন্য এলডিসি গ্রাজুয়েশন প্রক্রিয়া কী হবে, তা রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে ধারণ করতে হবে। বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র থেকে উদ্যোক্তা রাষ্ট্রে রূপান্তরের নীতিতে যেতে হবে। এজন্য উদ্যোক্তাদের লাইফ সাইকেল সাপোর্ট দিতে হবে। নতুন উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতা সক্ষম করে গড়ে তোলার মতো তহবিল সহায়তাসহ অন্যান্য সহায়তা দিতে হবে।’

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বৈষম্য কমানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে রাজনৈতিক দলগুলো কী পদক্ষেপ নেবে, তা ইশতেহারে উল্লেখ করার আহ্বান জানান।

About monmunia

x

Check Also

নিজের প্রাণের গিটারগুলো বিক্রি করছেন আইয়ুব বাচ্চু

Spread the love ...